ঠান্ডা ঘরে বসে যারা অর্ডার দেয়, তারা কি মাঠপর্যায়ের সমবায় কর্মচারীদের কষ্ট কখনও বোঝে?

ঠান্ডা ঘরে বসে যারা অর্ডার দেয়, তারা কি কখনও মাঠের মানুষের কষ্ট বোঝে?

© ArthaPath | Sudipta Malakar

ঠান্ডা ঘরে বসে যারা অর্ডার দেয়,
তারা কি কখনও মাঠের মানুষের কষ্ট বোঝে?

এই প্রশ্নটা অনেকের মনে আসে। কিন্তু কেউ জোরে বলে না।

যারা ঠান্ডা ঘরে বসে ফাইল দেখে, সই করে, অর্ডার দেয় — তারা কি কোনোদিন ভাবে, এই অর্ডারের নিচে কত মানুষের জীবন চাপা পড়ে থাকে?

আমার সন্দেহ আছে। গভীর সন্দেহ।


মাঠপর্যায়ের সমবায় কর্মচারীরা কোনোদিন ঠান্ডা ঘরে বসে কাজ করেনি। তারা রোদে পুড়েছে। বৃষ্টিতে ভিজেছে। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় হেঁটেছে। মানুষের দরজায় দরজায় গেছে।

কিন্তু তাদের কষ্টের কোনো হিসাব কখনও ফাইলে ওঠেনি।

ফাইল শুধু বলেছে — “রিকভারি কম” “পারফরম্যান্স খারাপ” “নোটিস ইস্যু করো”

ফাইল কখনও লেখেনি — আজ এই মানুষটাকে গালাগালি শুনতে হয়েছে। আজ তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সে ভেঙে পড়েছে।


যারা অর্ডার দেয়, তারা কি কখনও পিছনে তাকায়?

একটা অর্ডার নামলে নিচে কী হয়, সেটা খুব কম লোকই জানতে চায়।

একটা সই মানে —

  • কারও রাতের ঘুম উধাও
  • কারও পরিবারে টানাপোড়েন
  • কারও মানসিক ভাঙন

কিন্তু ঠান্ডা ঘরে বসে এসব দেখা যায় না।

সেখানে শুধু কাগজ। সংখ্যা। টার্গেট।


যারা চলে গেছে, তাদের কথা কেউ কি মনে রাখে?

এটাই সবচেয়ে কষ্টের প্রশ্ন।

অনেক মাঠপর্যায়ের সমবায় কর্মচারী আজ আর নেই। তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে।

কেউ হার্ট অ্যাটাকে। কেউ স্ট্রেসে। কেউ নিঃশব্দে।

তারা যাওয়ার আগে কোনোদিন বলতে পারেনি — “আমি পারছি না।” “আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”

অফিস কি কোনোদিন খোঁজ নিয়েছে? ডিপার্টমেন্ট কি কোনোদিন বলেছে — “তোমার পরিবার কেমন আছে?”

সন্দেহ আছে।


এই অভিমান কোথা থেকে আসে?

এই অভিমান জন্মায় —

  • অসম্মান থেকে
  • অন্যায় দোষ চাপানো থেকে
  • সৎ থাকার শাস্তি থেকে
  • অবসরের পর ভুলে যাওয়া থেকে

এই অভিমান একদিনে তৈরি হয় না। এটা জমে জমে তৈরি হয়।

শেষে সেটা রূপ নেয় ঘৃণায়।


এই ঘৃণা কি সত্যিকারের সমবায়ের বিরুদ্ধে?

না।

এই ঘৃণা সমবায় আদর্শের বিরুদ্ধে নয়। এই ঘৃণা সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে নিচের স্তরের মানুষ শুধু ব্যবহারযোগ্য।

এই ঘৃণা সেই নীরবতার বিরুদ্ধে, যেটা বছরের পর বছর মানুষকে চুপ করিয়ে রেখেছে।


এটা কি শুধু সমবায়েই হয়?

আমার জানা নেই।

কিন্তু যেখানেই —

  • নিচে কাজ
  • উপরে সিদ্ধান্ত
  • আর মাঝখানে মানবিকতা নেই

সেখানেই এমন ভাঙন তৈরি হয়।


এই লেখাটা অভিযোগ নয়। এই লেখাটা আর্তনাদ।

যারা আজও মাঠে আছে, তাদের জন্য সতর্কবার্তা। যারা চলে গেছে, তাদের জন্য নীরব শ্রদ্ধা।

আর যারা ঠান্ডা ঘরে বসে অর্ডার দেয় — একদিন যদি এই লেখাটা পড়ে থেমে যায়, তাহলেই এই লেখার সার্থকতা।


© ArthaPath | Sudipta Malakar

This is an independent research-based blog protected under Article 19 of the Indian Constitution – Freedom of Speech.

© ArthaPath | Sudipta Malakar

Sudipta Malakar

Founder of ArthaPath – a financial truth platform from India. Passionate about cooperative banking history, PACS workers' rights, rural finance, and cyber safety awareness. Writing to build a better-informed society through facts, not fiction.

Post a Comment

📣 Please be respectful. Hate or spam will be deleted.

Previous Post Next Post